Avatar

Anisul Huq -আনিসুল হক

Minister for Law, Justice and Parliamentary Affairs

Brahmanbaria-4 , Brahmanbaria

Bangladesh Awami League

View Question 2036 views

Subject : জনগণের সাথে চরম দুর্ব্যবহার এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি- জবাব চাই

Avatar

Written By : অনিকেত অনিন্দ্য

৩৬ তম বিসিএস ভাইভায় উত্তীর্ণ নন ক্যাডারদের বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে শূণ্যপদের চাহিদা পিএসসিতে প্রেরণের জন্য আকুল আবেদন দেয়ার সম্মিলিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে আইন,বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৬, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ভবনের ১১ তলার একটি কক্ষে আজ তৃতীয় দিনের মত গিয়েছিলাম সাব রেজিস্টার পদের রিকুইজিশন পিএসসিতে প্রেরণ করেছে কিনা তা জানার জন্য।।

গত দুইদিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা অফিসে ছিলেন না,অপেক্ষা করতে বলেছেন, আসতে দেরী হওয়ায় চলে এসেছি।। তৃতীয় দিন সকালবেলা ১০.২০ এ সেখানে গিয়ে তাকে অফিসে পেয়ে সালাম দিয়ে বললাম, আমি ৩৬ তম নন ক্যাডারদের পক্ষ থেকে একটা তথ্য নিতে এসেছি। সাব রেজিস্টার পদের রিকুইজিশন কি পিএসসিতে প্রেরণ করেছেন কিনা? তিনি আমার উপর হঠাৎ চড়াও হয়ে অফিস থেকে চলে যেতে বললেন।আমি হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে বললাম, আমি আপনার সাথে এক মিনিট কথা বলতে চাই, তাহলে আপনি বিষয়টা বুঝতে পারবেন কেনো এসেছি। একথা শুনে ওইরুমের ভিতরে কাচের দেয়ালের আলাদা কক্ষের উর্ধতন কর্মকর্তা, বিচার শাখা-৬(নাম ও পদবী দেখি নাই) বের হয়ে অতর্কিত আমাকে বলে বসলেন, সাব রেজিস্টারের রিকুইজিশন কেনো পাঠাতে হবে? পিএসসি চাইলেই কি রিকুইজিশন দিতে হবে??সাব রেজিস্টার হওয়ার এতো শখ কেনো?নন ক্যাডার থেকে প্রতিবছর নিয়োগ দেয়া লাগবে কেনো?

আমি তাদের আচরণে নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে বললাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সংসদে বলেছেন, মন্ত্রণালয় গুলোতে নির্দেশ দিয়েছেন শূণ্যপদ দ্রুত পূরণ করতে, তাই আপনাদের কাছে রিকুইজিশন এর তথ্য চাইতে এসেছি।আমি ২৭০০ প্রার্থীর পক্ষে শুধু তথ্য নিতে এসেছি রিকুইজিশন প্রেরণ করেছেন কিনা। তথ্য না দিলে চলে যাব। এতো কথা না বাড়িয়ে ভাল করে বলতে পারতেন তথ্য দেয়া যাবেনা।

তারপর সেই উর্ধতন কর্মকর্তা আবার চুড়ান্ত চড়াও হয়ে বললেন,প্রধানমন্ত্রী,মন্ত্রী বললেই কি রিকুইজিশন দিতে হবে?? যান আপনার প্রধানমন্ত্রীকে গিয়ে বলেন রিকুইজিশন দিতে।আমাদের কাছে কেনো আসছেন।

যুক্তি দিয়ে কথা বলায় আমাকে প্রায় মারতে আসেন এমন অবস্থা। আমি মনে অনেক কষ্ট নিয়ে অফিস থেকে বের হয়ে আসলাম।

প্রজাতন্ত্রের টাকায় বেতন নিয়ে যাদের জীবিকা চলে,সামান্য ভাল আচরণ কি তারা নাগরিকদের সাথে করতে পারে না??

হ্যা, তথ্য না দিলেও কষ্ট পেতাম না,কিন্তু কোন রেষ ছাড়াই এ কেমন আচরণ তাদের?

আজ অফিসিয়ালী বুঝতে পেরেছি, দেশে বেকারত্ব সমস্যা জটিল আকার ধারন করেছে, মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কিছু অদৃশ্য অপশক্তির শূণ্যপদের চাহিদা প্রেরণের অনিচ্ছায়।তারা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মানেন না,তারা জনগণের টাকায় বেতন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে নিজেরা আরাম আয়েস করে দিন কাটায়,বেকাররা পড়াশুনা করে দীর্ঘ প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হয়ে তাদের স্বদিচ্ছার অভাবে পদ ফাঁকা থাকলেও নিয়োগ পায় না। নতুন কেউ চাকরি পেয়ে তাদের সাথে কাজ করবে এটা তাদের সহ্য হয় না।লোক বেশি হলে ক্ষমতা কমে যাবে, তাই এ প্রতিহিংসা।।

অতীতেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শূন্যপদ পূরনের নির্দেশ দিয়েছেন, তা নিয়ে সব পত্রিকায় রিপোর্ট হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরেও তাদের রিকুইজিশন প্রেরণ করতে এতো কিসের অনীহা???পদ ফাঁকা রেখে তাদের লাভের জায়গাটা কোথায়? নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা চাকরিতে যোগদান করলে তাদের সমস্যা কি? নিয়োগ ও বেতন দিবে সরকার তবুও কেনো তারা চায় না নতুন নিয়োগ হোক।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে দিনরাত পরিশ্রম করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে বিশ্ব মানবতার নেত্রী হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন, তখন প্রজাতন্ত্রের কিছু নীচু মনের কর্মকর্তা নাগরিকের সাথে কেমন আচরণ করতে হয় তা ভুলে গিয়েছেন। রাষ্ট্রের নাগরিকদের সেবা করতে না চাইলে চাকরি ছেড়ে দিন,জনগণের খাজনার টাকায় বেতন তুলে তাদেরকে ভোগান্তি দিতে এই সব  কি একটুও কি বিবেকে বাধেনা? 

আশা করি তাকে জবাবদিহিতার আয়তায় আনবেন।

মোঃ শফিউল ইসলাম মন্ডল (জুয়েল) 
৩৬ তম বিসিএস ভাইভায় উত্তীর্ণ একজন নন ক্যাডার পদপ্রার্থী।